১. খর পানির সুবিধা কি ?

(i) শক্ত হাড় ও দাঁত গঠনের জন্য ক্যালসিয়াম লবণের প্রয়োজন বলে খর পানি শিশুদের দেহ গঠনে বিশেষ সহায়ক। মৃদু পানির তুলনায় খর পানিতে সিসা খুব কম পরিমাণে দ্রবীভূত হয়। কাজেই সিসা নির্মিত নলের ভেতর দিয়ে খর পানি সরবরাহ করা নিরাপদ। কারণ এতে সিসার বিষক্রিয়ার ভয় কম থাকে।

(ii) খর পানি, তথা খনিজ পানি চর্মরোগ, বাতরোগ, বদহজম প্রভৃতির ঔষধ হিসেবে কাজ করে।

২. খর পানির অসুবিধা কি ?

(i) কাপড় ধোয়া বা লন্ড্রির কাজে খর পানি ব্যবহার করলে সাবানের অপচয় ঘটে।

(ii) বয়লারে খর পানি ব্যবহার করলে এর ভেতরে অদ্রবণীয় কঠিন ধাতব লবণের আস্তরণ সৃষ্টি হয়। এরূপ আস্তরণ তাপ কুপরিবাহী বলে জ্বালানির খরচ বেড়ে যায়।

(iii) কাগজ, কৃত্রিম সিল্ক ও রঞ্জন শিল্পে খর পানি ব্যবহার করা যায় না। খর পানিতে দ্রবণীয় ফেরাস লবণ থাকলে কাগজ ও কৃত্রিম সিল্কের ওপর বাদামি বর্ণের দাগ পড়ে। কাপড় বা সুতার রঙের কাজে ব্যবহৃত রঙের সাথে খর পানির বিক্রিয়ার ফলে অদ্রবণীয় পদার্থ সৃষ্টি হয়। ফলে রঙের অপচয় ঘটে।

(iv) খর পানিতে চাল, ডাল প্রভৃতি সহজে সিদ্ধ হয় না এবং তরকারির স্বাদও কম হয়ে থাকে। তরকারির রং কালচে হয়ে যায়। গ্লাস ও বাসনপত্রে বাদামি রংয়ের দাগ পড়ে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!